,

বিক্ষোভে উত্তাল ভারতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

বিডিনিউজ ১০, আন্তর্জাতিকভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (এনআরসি) আইনে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে আসামের পর ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজধানী নয়াদিল্লি, পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশ। এরই মধ্যে বিতর্কিত এই আইনের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। খবর ‘রয়টার্স’।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল শহর উত্তরপ্রদেশে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে হাতহতের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। কেবল রাজ্যটিতেই নিহত হয়েছেন ১৮ জন বিক্ষোভকারী। নিহতদের মধ্যে আট বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

এ দিকে তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই ও বিহারের উত্তরাঞ্চলীয় শহর পাটনাসহ আশপাশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার লোক নতুন করে বিক্ষোভে যোগ দেন। তাছাড়া রাজধানী নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক জমায়েত দেখা গেছে।

অপর দিকে ফরাসি বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’ জানিয়েছে, শনিবার (২১ ডিসেম্বর) পুলিশি অভিযানে কমপক্ষে ৪০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত আটজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

এমন প্রেক্ষাপটে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কাউকেই আর আসামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে যারা ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার হয়ে দশকের পর দশক যাবত বাংলাদেশ থেকে এই রাজ্যে এসে বসবাস করছেন তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দের মতে, ‘আসাম চুক্তির ষষ্ঠ ধারাতে অসমবাসীর ভাষা, সংস্কৃতি, পরিচয়, আইনি, ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশাসনিক অধিকার দিয়েছে।’

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভায় বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়। বিলটিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করেন ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ।

পরে ১১ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় পাস হয় বিলটি। রাজ্যসভায় এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৫টি। আর বিপক্ষে পড়েছে ১০৫টি ভোট। যার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে বিতর্কিত এই বিলটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর